Samsung Galaxy F36 5G এর দাম কত: মিড-রেঞ্জ চ্যাম্পিয়ন?

স্মার্টফোন বাজারে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মডেল আসছে, আর এর মধ্যে কোনটা যে আপনার জন্য সেরা, তা খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। তবে সম্প্রতি স্যামসাংয়ের Galaxy F36 5G ফোনটি বেশ আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে যারা একটি নির্ভরযোগ্য, শক্তিশালী এবং একই সাথে স্টাইলিশ ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ফোনটি হতে পারে দারুণ এক অপশন।

বাংলাদেশে এর আনুমানিক দাম ৳25,000 থেকে ৳29,000 এর মধ্যে হতে পারে। মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে স্যামসাং বরাবরই ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করে, আর F36 5G সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। এই ফোনটি মূলত সেইসব তরুণদের টার্গেট করে বানানো হয়েছে, যারা গেমিং, ফটোগ্রাফি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকতে পছন্দ করেন। ধরুন আপনি বাসে যাচ্ছেন, আর আপনার পছন্দের গেমটা খেলতে গিয়ে ফোন ল্যাগ করছে না, কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে সুন্দর একটা ছবি তুলে ফেললেন – এমন সব মুহূর্তের জন্যই যেন এই ফোনটি তৈরি।

বাংলাদেশে দাম ও বাজার বিশ্লেষণ

Samsung Galaxy F36 5G ফোনটি এখনো বাংলাদেশে অফিসিয়ালি রিলিজ হয়নি, তবে জিএসএমএরেনা (GSMArena) অনুযায়ী এর সম্ভাব্য রিলিজ ডেট ২০২৫ সালের ২৯শে জুলাই । Mobiledokan এবং GizNext এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এর আনুমানিক দাম ৳25,000 থেকে ৳29,000 এর মধ্যে হতে পারে।

সত্যি বলতে, এই প্রাইস রেঞ্জে বাজারে প্রতিযোগিতা বেশ তীব্র। Xiaomi, Realme, POCO, এবং Vivo-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো এই সেগমেন্টে শক্তিশালী ফোন নিয়ে আসে। তবে স্যামসাংয়ের নিজস্ব ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং সার্ভিস নেটওয়ার্কের কারণে Galaxy F36 5G একটি ভালো অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা যায়। যারা একটি নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের ফোন চান এবং সার্ভিস নিয়ে চিন্তা করতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

Samsung Galaxy F36 price in bangladesh

আরো পড়ুন – বাংলাদেশে Realme 15 pro price এর দাম কত 2025

স্পেসিফিকেশন টেবিল

ফিচারবিস্তারিত
নেটওয়ার্কGSM / HSPA / LTE / 5G
ঘোষণা2025, জুলাই 21
স্ট্যাটাসশীঘ্রই আসছে। সম্ভাব্য রিলিজ 2025, জুলাই 29
ডাইমেনশন164.4 x 77.9 x 7.7 mm
ওজন197 g
বিল্ডগ্লাস ফ্রন্ট (Gorilla Glass Victus+), প্লাস্টিক ফ্রেম, সিলিকন পলিমার ব্যাক (ইকো লেদার)
সিমন্যানো-সিম + ন্যানো-সিম
ডিসপ্লে টাইপসুপার AMOLED, 120Hz
ডিসপ্লে সাইজ6.7 ইঞ্চি
রেজোলিউশন1080 x 2340 পিক্সেল (~387 ppi)
প্রোটেকশনCorning Gorilla Glass Victus+
OSAndroid 15, One UI 7
চিপসেটExynos 1380 (5 nm)
CPUঅক্টা-কোর (4×2.4 GHz Cortex-A78 & 4×2.0 GHz Cortex-A55)
GPUMali-G68 MP5
কার্ড স্লটmicroSDXC (শেয়ার্ড সিম স্লট)
ইন্টারনাল মেমরি128GB 6GB RAM, 128GB 8GB RAM, 256GB 8GB RAM
মেইন ক্যামেরা (ট্রিপল)50 MP (ওয়াইড), 8 MP (আল্ট্রাওয়াইড), 2 MP (ম্যাক্রো)
মেইন ক্যামেরা ফিচারLED ফ্ল্যাশ, প্যানোরামা, HDR
মেইন ক্যামেরা ভিডিও4K@30fps, 1080p@30/60fps, 720p@480fps, gyro-EIS
সেলফি ক্যামেরা13 MP (ওয়াইড)
সেলফি ক্যামেরা ভিডিও4K@30fps, 1080p@30fps
লাউডস্পিকারহ্যাঁ
3.5mm জ্যাকনা
WLANWi-Fi 802.11 a/b/g/n/ac/6, ডুয়াল-ব্যান্ড
ব্লুটুথ5.3, A2DP, LE
পজিশনিংGPS, GALILEO, GLONASS, BDS, QZSS
NFCহ্যাঁ
রেডিওনা
USBUSB Type-C 2.0, OTG
সেন্সরফিঙ্গারপ্রিন্ট (সাইড-মাউন্টেড), অ্যাক্সেলেরোমিটার, জাইরো, কম্পাস
ব্যাটারি টাইপ5000 mAh
চার্জিং25W ওয়্যারড
রংLuxe Violet, Coral Red, Onyx Black

ভালো দিক (Pros)

Samsung Galaxy F36 5G এর বেশ কিছু দিক আছে যা আপনাকে মুগ্ধ করবে। প্রথমত, এর সুপার AMOLED ডিসপ্লে। সত্যি বলতে, এই ডিসপ্লেতে ভিডিও দেখা বা গেম খেলা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। রংগুলো এতটাই প্রাণবন্ত আর উজ্জ্বল যে মনে হবে যেন সব কিছু জীবন্ত। ১২০Hz রিফ্রেশ রেট থাকার কারণে স্ক্রল করা বা অ্যাপ খোলা-বন্ধ করা সবকিছুই মনে হবে মাখনের মতো মসৃণ।

দ্বিতীয়ত, এর 5000 mAh ব্যাটারি। সারাদিন ফোন ব্যবহার করেও চার্জ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। যারা দীর্ঘ সময় ধরে ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটা একটা বিশাল সুবিধা। তৃতীয়ত, Exynos 1380 চিপসেট। এই চিপসেট মিড-রেঞ্জ ফোন হিসেবে বেশ শক্তিশালী, যা দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে গেমিং পর্যন্ত সব কিছুতেই ভালো পারফরম্যান্স দেবে।

আর সবশেষে, Corning Gorilla Glass Victus+ প্রোটেকশন। এই দামে এমন শক্তিশালী ডিসপ্লে প্রোটেকশন পাওয়াটা সত্যিই প্রশংসনীয়।

খারাপ দিক (Cons)

যেকোনো ফোনেরই কিছু ভালো দিক যেমন থাকে, তেমনি কিছু খারাপ দিকও থাকে। Samsung Galaxy F36 5G এর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রথমত, এতে 3.5mm হেডফোন জ্যাক নেই। যারা এখনো তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটা একটা সমস্যা হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, 25W চার্জিং স্পিড। যদিও 5000 mAh ব্যাটারি বেশ বড়, কিন্তু এই চার্জিং স্পিড দিয়ে ফোন ফুল চার্জ হতে কিছুটা সময় লাগবে। বর্তমান বাজারে অনেক ফোনেই এর চেয়ে দ্রুত চার্জিং সুবিধা পাওয়া যায়।

তৃতীয়ত, শেয়ার্ড সিম স্লট। অর্থাৎ, আপনি হয় দুটি সিম ব্যবহার করতে পারবেন, অথবা একটি সিম ও একটি মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। যারা দুটি সিম এবং অতিরিক্ত স্টোরেজ দুটোই একসাথে ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য এটা একটা সীমাবদ্ধতা।

হিডেন ফিচার, AI ও ইকো টিপস

Samsung Galaxy F36 5G শুধু স্পেসিফিকেশন দিয়েই নয়, কিছু স্মার্ট ফিচার আর AI ইন্টিগ্রেশন দিয়েও মন জয় করবে। এর অন্যতম আকর্ষণ হলো Circle to Search ফিচারটি। ধরুন আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ছবি দেখছেন আর সেখানে কোনো পণ্য বা স্থানের ছবি আপনার পছন্দ হলো, শুধু সেই অংশটুকু সার্কেল করলেই গুগল আপনাকে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেখাবে। এটা সত্যি বলতে খুবই কাজের একটা ফিচার, যা আপনার সার্চিং অভিজ্ঞতাকে অনেক সহজ করে দেবে।

এছাড়া, ফোনটিতে AI-পাওয়ার্ড এডিট সাজেশনস রয়েছে, যা আপনার তোলা ছবিগুলোকে আরও সুন্দর করতে সাহায্য করবে। যেমন, ছবি তোলার পর AI নিজেই আপনাকে বেস্ট এডিটিং অপশনগুলো দেখাবে, যা দিয়ে আপনি সহজেই ছবিগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন।

পরিবেশ সচেতনতার দিক থেকেও স্যামসাং পিছিয়ে নেই। Galaxy F36 5G এর বিল্ড কোয়ালিটিতে সিলিকন পলিমার ব্যাক (ইকো লেদার) ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব উপাদানের প্রতি স্যামসাংয়ের অঙ্গীকারের প্রমাণ। এছাড়া, ফোনটি ৬টি বড় অ্যান্ড্রয়েড আপগ্রেড এবং One UI 7 এর সাথে আসছে, যার মানে আপনি দীর্ঘ সময় ধরে লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট এবং সিকিউরিটি প্যাচ পাবেন। এর ফলে আপনাকে ঘন ঘন ফোন পরিবর্তন করতে হবে না, যা ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমাতে সাহায্য করবে।

গেমিং ও পারফরম্যান্স

গেমিং আজকাল স্মার্টফোনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। Samsung Galaxy F36 5G এর Exynos 1380 (5 nm) চিপসেট এবং Mali-G68 MP5 GPU গেমিংয়ের জন্য বেশ উপযুক্ত। সত্যি বলতে, এই চিপসেটটি মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে বেশ শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম।

আপনি যদি পাবজি মোবাইল, ফ্রি ফায়ার ম্যাক্স, বা কল অফ ডিউটির মতো জনপ্রিয় গেমগুলো খেলতে চান, তাহলে এই ফোন আপনাকে হতাশ করবে না। মিডিয়াম থেকে হাই গ্রাফিক্স সেটিংসেও আপনি স্মুথ গেমিং এক্সপেরিয়েন্স পাবেন। ধরুন আপনি বন্ধুদের সাথে অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেম খেলছেন, তখন ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপের মতো সমস্যাগুলো আপনাকে বিরক্ত করবে না।

দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ফোনটি বেশ সাবলীল। অ্যাপ খোলা-বন্ধ করা, মাল্টিটাস্কিং করা – সবকিছুই দ্রুত এবং মসৃণভাবে সম্পন্ন হবে।

ক্যামেরা বিশ্লেষণ

স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে ক্যামেরার গুরুত্ব এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না। Samsung Galaxy F36 5G এর ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপে রয়েছে একটি 50 MP ওয়াইড লেন্স, একটি 8 MP আল্ট্রাওয়াইড লেন্স এবং একটি 2 MP ম্যাক্রো লেন্স

সত্যি বলতে, 50 MP মেইন ক্যামেরাটি দিনের আলোতে বেশ ভালো ছবি তুলতে সক্ষম। ছবিগুলোতে ডিটেইলস এবং কালার রিপ্রোডাকশন বেশ ভালো পাওয়া যায়। OIS (অপটিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন) থাকার কারণে ছবি এবং ভিডিওতে ঝাঁকুনি অনেকটাই কমে আসে, যা বিশেষ করে কম আলোতে ছবি তোলার সময় খুব কাজে দেয়। 8 MP আল্ট্রাওয়াইড লেন্স দিয়ে আপনি বড় ল্যান্ডস্কেপ বা গ্রুপ ছবি তুলতে পারবেন। তবে 2 MP ম্যাক্রো লেন্সটি শুধু শখের ফটোগ্রাফারদের জন্য, খুব বেশি ডিটেইলস আশা করা ঠিক হবে না।

সেলফি ক্যামেরার কথা বলতে গেলে, এতে রয়েছে একটি 13 MP ওয়াইড লেন্স। এই ক্যামেরা দিয়ে ভালো মানের সেলফি তোলা যাবে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য। 4K@30fps ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা মেইন এবং সেলফি উভয় ক্যামেরাতেই রয়েছে, যা এই প্রাইস রেঞ্জে একটি দারুণ ফিচার। সামগ্রিকভাবে, Galaxy F36 5G এর ক্যামেরা সেটআপ দৈনন্দিন ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফির জন্য যথেষ্ট ভালো।

ব্যাটারি ও চার্জিং

ব্যাটারি লাইফ নিয়ে চিন্তা করা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সাধারণ বিষয়। Samsung Galaxy F36 5G এ রয়েছে একটি বিশাল 5000 mAh ব্যাটারি, যা আপনাকে সারাদিন নিশ্চিন্তে ফোন ব্যবহারের সুবিধা দেবে। ধরুন আপনি সকালে ফোন চার্জ দিলেন, সারাদিন ইন্টারনেট ব্রাউজিং, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, কিছু গেমিং এবং কল করার পরেও দিনের শেষে আপনার ফোনে যথেষ্ট চার্জ থাকবে।

তবে চার্জিং স্পিডের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা পিছিয়ে। 25W ওয়্যারড চার্জিং সুবিধা থাকলেও, বর্তমান বাজারে অনেক ফোনেই এর চেয়ে দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি দেখা যায়। সম্পূর্ণ চার্জ হতে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। যারা রাতে ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমান, তাদের জন্য এটা কোনো সমস্যা নয়, তবে যারা দ্রুত চার্জ করতে চান, তাদের কাছে এটি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি

ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি একটি ফোনের প্রথম ইম্প্রেশন তৈরি করে। Samsung Galaxy F36 5G এর ডিজাইন বেশ আকর্ষণীয়। এর গ্লাস ফ্রন্ট (Gorilla Glass Victus+) এবং সিলিকন পলিমার ব্যাক (ইকো লেদার) ফোনটিকে একটি প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। বিশেষ করে ইকো লেদার ফিনিশটি ফোনটিকে হাতে ধরতে বেশ আরামদায়ক করে তোলে এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে রক্ষা করে।

প্লাস্টিক ফ্রেম ব্যবহার করা হলেও, সামগ্রিক বিল্ড কোয়ালিটি বেশ মজবুত মনে হয়েছে। ফোনটি মাত্র 7.7mm পুরু এবং 197g ওজনের, যা এটিকে বেশ স্লিম এবং হালকা করে তুলেছে। ফলে এক হাতে ব্যবহার করতে বা পকেটে রাখতে কোনো অসুবিধা হবে না। এছাড়া, ফোনটি 2 মিটার পর্যন্ত ড্রপ রেজিস্ট্যান্ট, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সুরক্ষা দেবে। Luxe Violet, Coral Red, Onyx Black – এই তিনটি আকর্ষণীয় রঙে ফোনটি পাওয়া যাবে।

সফটওয়্যার ও UI

সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স একটি স্মার্টফোনের প্রাণ। Samsung Galaxy F36 5G আসছে লেটেস্ট Android 15 এবং স্যামসাংয়ের নিজস্ব কাস্টমাইজড ইউজার ইন্টারফেস One UI 7 এর সাথে। সত্যি বলতে, One UI স্যামসাংয়ের অন্যতম সেরা বৈশিষ্ট্য। এটি খুবই ইউজার-ফ্রেন্ডলি, ক্লিন এবং কাস্টমাইজেশনের জন্য অনেক অপশন রয়েছে।

আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী থিম, আইকন প্যাক এবং উইজেট সেট করতে পারবেন। স্যামসাং প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে এই ফোনে ৬টি বড় অ্যান্ড্রয়েড আপগ্রেড পাওয়া যাবে, যা একটি মিড-রেঞ্জ ফোনের জন্য অসাধারণ। এর মানে হলো, আপনি দীর্ঘ সময় ধরে লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ফিচার এবং সিকিউরিটি আপডেট উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া, One UI 7 এর সাথে আসা নতুন ফিচারগুলো আপনার দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করে তুলবে।

কানেক্টিভিটি ও সিকিউরিটি

আধুনিক স্মার্টফোনে কানেক্টিভিটি এবং সিকিউরিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Samsung Galaxy F36 5G তে রয়েছে 5G কানেক্টিভিটি, যা আপনাকে দ্রুত ইন্টারনেট স্পিড এবং নিরবচ্ছিন্ন অনলাইন অভিজ্ঞতা দেবে। Wi-Fi 802.11 a/b/g/n/ac/6 এবং ডুয়াল-ব্যান্ড Wi-Fi Direct এর মতো আধুনিক ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটি অপশনগুলোও এতে বিদ্যমান।

ব্লুটুথ 5.3, GPS, GALILEO, GLONASS, BDS, QZSS এবং NFC এর মতো ফিচারগুলোও এই ফোনে রয়েছে, যা আপনার দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। ধরুন আপনি NFC ব্যবহার করে দ্রুত পেমেন্ট করতে চান, এই ফোনটি আপনাকে সেই সুবিধা দেবে।

সিকিউরিটির দিক থেকে, Galaxy F36 5G এ রয়েছে সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, যা দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে ফোন আনলক করতে সাহায্য করে। এছাড়া, ফেস আনলক এবং অন্যান্য স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড্রয়েড সিকিউরিটি ফিচারগুলোও এতে পাওয়া যাবে। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে এই ফিচারগুলো খুবই কার্যকর।

প্রতিযোগী তুলনা

Samsung Galaxy F36 5G যে প্রাইস সেগমেন্টে আসছে, সেখানে প্রতিযোগিতা বেশ তীব্র। এই রেঞ্জে Xiaomi, Realme, POCO, এবং Vivo এর মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের শক্তিশালী ফোন নিয়ে বাজারে আছে। উদাহরণস্বরূপ, Xiaomi-এর Redmi Note সিরিজ বা Realme-এর Narzo সিরিজ এই সেগমেন্টে বেশ জনপ্রিয়। এই ফোনগুলোর সাথে Galaxy F36 5G এর মূল পার্থক্যগুলো হলো:

  • ডিসপ্লে: Galaxy F36 5G এর সুপার AMOLED 120Hz ডিসপ্লে এই সেগমেন্টের অনেক ফোনের চেয়ে এগিয়ে। কিছু প্রতিযোগী ফোনে হয়তো AMOLED ডিসপ্লে থাকলেও, 120Hz রিফ্রেশ রেট সব ফোনে নাও থাকতে পারে।
  • পারফরম্যান্স: Exynos 1380 চিপসেট একটি শক্তিশালী চিপসেট, যা দৈনন্দিন ব্যবহার এবং গেমিংয়ের জন্য যথেষ্ট। তবে কিছু প্রতিযোগী ফোনে হয়তো Snapdragon 700 সিরিজের চিপসেট দেখা যেতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে।
  • ক্যামেরা: 50 MP OIS মেইন ক্যামেরা Galaxy F36 5G এর একটি শক্তিশালী দিক। এই দামে OIS সহ ক্যামেরা খুব বেশি ফোনে পাওয়া যায় না। তবে কিছু প্রতিযোগী ফোনে হয়তো মেগাপিক্সেল বেশি থাকতে পারে, কিন্তু OIS এর অভাব থাকতে পারে।
  • সফটওয়্যার আপডেট: স্যামসাংয়ের ৬টি বড় অ্যান্ড্রয়েড আপগ্রেডের প্রতিশ্রুতি এই সেগমেন্টে বিরল। বেশিরভাগ প্রতিযোগী ব্র্যান্ড ২-৩টি বড় আপগ্রেড দিয়ে থাকে।
  • বিল্ড কোয়ালিটি: Gorilla Glass Victus+ প্রোটেকশন এবং ইকো লেদার ব্যাক এই ফোনটিকে একটি প্রিমিয়াম ফিলিংস দিয়েছে, যা অনেক প্রতিযোগী ফোনে অনুপস্থিত।

সত্যি বলতে, প্রতিটি ফোনেরই নিজস্ব কিছু বিশেষত্ব থাকে। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনাকে বেছে নিতে হবে।

সার্ভিস ও ওয়ারেন্টি

স্যামসাংয়ের মতো একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের ফোন কেনার একটি বড় সুবিধা হলো এর সার্ভিস এবং ওয়ারেন্টি। বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের বিশাল সার্ভিস নেটওয়ার্ক রয়েছে। আপনি দেশের যেকোনো প্রান্তে স্যামসাংয়ের অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার খুঁজে পাবেন। ফোন কেনার পর যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আপনি সহজেই সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে সাহায্য নিতে পারবেন।

সাধারণত, স্যামসাং তাদের স্মার্টফোনে ১ বছরের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে। এই ওয়ারেন্টির আওতায় আপনি ফোনের হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার জন্য বিনামূল্যে সার্ভিসিং বা রিপ্লেসমেন্ট পেতে পারেন। এটি আপনাকে মানসিক শান্তি দেবে যে আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন (FAQ)

১. Samsung Galaxy F36 5G কি গেমিংয়ের জন্য ভালো?
হ্যাঁ, এর Exynos 1380 চিপসেট এবং Mali-G68 MP5 GPU মিড-রেঞ্জ গেমিংয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো। জনপ্রিয় গেমগুলো মিডিয়াম থেকে হাই সেটিংসে স্মুথলি খেলতে পারবেন।

২. এই ফোনে কি 3.5mm হেডফোন জ্যাক আছে?
না, এই ফোনে 3.5mm হেডফোন জ্যাক নেই। আপনাকে USB Type-C বা ওয়্যারলেস হেডফোন ব্যবহার করতে হবে।

৩. Galaxy F36 5G কি ওয়াটারপ্রুফ?
GSMArena এর তথ্য অনুযায়ী, ফোনটি 2 মিটার পর্যন্ত ড্রপ রেজিস্ট্যান্ট, তবে ওয়াটারপ্রুফিং সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তাই পানিতে সাবধানে ব্যবহার করাই ভালো।

৪. এই ফোনের ব্যাটারি কতক্ষণ চলে?
5000 mAh ব্যাটারি থাকায় সাধারণ ব্যবহারে সারাদিন অনায়াসে চলে যাবে। তবে হেভি গেমিং বা ভিডিও স্ট্রিমিং করলে চার্জ কিছুটা দ্রুত শেষ হতে পারে।

৫. আমি কি এই ফোনে মেমরি কার্ড ব্যবহার করতে পারব?
হ্যাঁ, আপনি microSDXC কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন, তবে এটি শেয়ার্ড সিম স্লট ব্যবহার করে। অর্থাৎ, দুটি সিম এবং মেমরি কার্ড একসাথে ব্যবহার করা যাবে না।

উপসংহার ও Buying Advice

সবকিছু বিবেচনা করে বলা যায়, Samsung Galaxy F36 5G একটি দারুণ মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোন হতে চলেছে। যারা একটি সুন্দর ডিসপ্লে, শক্তিশালী ব্যাটারি, ভালো ক্যামেরা এবং দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার আপডেট সহ একটি নির্ভরযোগ্য ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ। বিশেষ করে যারা স্যামসাং ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা রাখেন এবং প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি চান, তাদের জন্য এই ফোনটি আদর্শ।

সত্যি বলতে, যদি 3.5mm জ্যাক না থাকা এবং 25W চার্জিং স্পিড আপনার জন্য বড় কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে Galaxy F36 5G আপনার দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হিসেবে দারুণ পারফর্ম করবে। বাজারে এর সম্ভাব্য দাম বিবেচনা করে, এটি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী। কেনার আগে আপনার বাজেট এবং প্রয়োজনীয়তাগুলো একবার মিলিয়ে নিন, আশা করি আপনি হতাশ হবেন না।

তথ্যসূত্র

[1] GSMArena: https://www.gsmarena.com/samsung_galaxy_f36_5g-14009.php
[2] MobileDokan: https://www.mobiledokan.co/product/samsung-galaxy-f36/
[3] GizNext: https://www.giznext.com/bd/mobiles/samsung-galaxy-f36-gnt

আরো পড়ুন – Vivo T4 Lite 5G: ১০ হাজার টাকার বাজেট রাজা, নাকি শুধু সস্তা চমক?

Leave a Comment